আবর্জনার স্তূপ থেকে সবুজের স্বপ্ন: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দক্ষিণ কলকাতায় চারা বিতরণে পরিমল দে
কলকাতা, ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ কলকাতার গাঙ্গুলীবাগানে শতাধিক বৃক্ষচারা বিতরণ করে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিলেন বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী ও সমাজসেবী পরিমল দে। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার বহু বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতিন প্যাটেল এবং প্রিয়াঙ্কা চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরিবেশ সংরক্ষণে পরিমল দে-র কাজ ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কলকাতায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে তিনি দীর্ঘদিনের আবর্জনার ভাগাড় ও অবহেলিত একটি পুকুরকে রূপান্তরিত করে গড়ে তোলেন মাদার আর্থ থিম পার্ক। একসময় যা সমাজবিরোধী কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থল ছিল, আজ তা স্থানীয় মানুষের কাছে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জনপরিসর হিসেবে পরিচিত। প্রকল্পের শুরুতে নানা বাধা ও বিরোধিতার সম্মুখীন হলেও তিনি তাঁর লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
বিগত কয়েক বছরে তিনি প্রজাপতি গ্রাম নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টিকর খাদ্য সহায়তা, বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা কর্মসূচি এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ত্রাণ কার্যক্রমসহ একাধিক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ পরিচালনা করেছেন। তাঁর বার্ষিক বৃক্ষচারা বিতরণ কর্মসূচি বহু মানুষকে পরিবেশ রক্ষার কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিমল দে বলেন, “একটি আবর্জনার স্তূপকে মাদার আর্থ থিম পার্কে রূপান্তরিত করার অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে যে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনও বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি প্রত্যেক নাগরিককে অনুরোধ করছি, তাঁরা যেন নিজেদের মায়ের সম্মানে অন্তত একটি গাছ রোপণ করেন এবং তার যত্ন নেন।”
বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, তখন পরিমল দে-র এই নাগরিক-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে স্থানীয় স্তরে গৃহীত সচেতন পদক্ষেপও সমাজ ও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর এই উদ্যোগ বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্যকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
Comments
Post a Comment